হরপ্রসাদ শাস্ত্রী




হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৮৫৩-১৯৩১)


হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ছিলেন একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, বহুভাষাবিদ, দার্শনিক, পণ্ডিত, প্রত্নতত্ত্ববিদ, ঐতিহাসিক, সংস্কৃত বিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা। ভারততত্ত্ব নিয়ে শাস্ত্রীকে আগ্রহী করেন রাজেন্দ্রলাল মিত্র। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের (১৯২১) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন এবং ‘এশিয়াটিক সোসাইটি'র সভাপতি ছিলেন (১৯১৯-১৯২১)।

 

সাহিত্যিক উপাদান

সাহিত্যিক তথ্য

জন্ম

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে নৈহাটি,পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।আদি নিবাস- খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে ।

প্রকৃত নাম

প্রকৃত নাম শরৎচন্দ্র ভট্টাচার্য। পারিবারিক পদবি- ভট্টাচার্য

‘হোলকার পুরস্কার'

তিনি বিএ ক্লাসে অধ্যয়নকালেই ‘বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত ‘ভারত মহিলা' প্রবন্ধটি রচনা করে ‘হোলকার পুরস্কার' লাভ করেন।

উপাধি

তাঁর উপাধি- মহামহোপাধ্যায় (১৮৯৮), সি.আ.ই (১৯১১)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ডি.লিট (১৯২৭) উপাধিতে ভূষিত হন ।সংস্কৃত কলেজ থেকে তিনিই একমাত্র প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ (১৮৭৭) হওয়ায় তাকে ‘শাস্ত্রী’ উপাধি দেওয়া হয়।

পুঁথি আবিষ্কার

বাংলার প্রাচীন পুঁথির খোঁজে তিনি চারবার (১৮৯৭, ১৮৯৮, ১৯০৭, ১৯২২) নেপাল ভ্রমণ করেন এবং ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার (রয়েল লাইব্রেরি) থেকে ‘চর্যাপদ’ আবিষ্কার করেন ।

চর্যাপদ প্রকাশনা

মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) কলকাতার ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' থেকে ‘চর্যাচর্য্যবিনিশ্চয়’ ‘ডাকার্ণব’, ‘সরহপাদের দোহা'‘কাহ্নপাদের দোহা' গ্রন্থের সম্মিলন ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' নামে প্রকাশিত হয়

গ্রন্থসমূহ

উপন্যাস : ‘কাঞ্চনমালা’ (১৯১৬), ‘বেণের মেয়ে' (১৯২০)।

তৈল’: এটি প্রথম 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

‘বাল্মীকির জয়’ (১৮৮১),

'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' (১৮৮২), ‘মেঘদুত' (১৯০২),

‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' (১৯১৬),

‘প্রাচীন বাংলার গৌরব' (১৯৪৬),

বৌদ্ধধর্ম’ (১৯৪৮),

‘সচিত্র রামায়ণ'

‘বেণের মেয়ে'

মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর বিখ্যাত উপন্যাস 'বেণের মেয়ে' (১৯২০)। এটি ঐতিহাসিক উপন্যাস হলেও এর চরিত্রগুলো কাল্পনিক। দশম-একাদশ শতাব্দীর বাংলাদেশে বৌদ্ধধর্মের অবসান, হিন্দু ধর্মের নবরূপে আবির্ভাবকালে সপ্তগ্রামের এক বৌদ্ধ পরিবারকে নিয়ে এ উপন্যাসের কাহিনির গতিপথ প্রসারিত হয়েছে। এ উপন্যাসের মাধ্যমে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী অতীতকে নতুনরূপে উপস্থাপন করেছেন।

মৃত্যু

তিনি ১৭ নভেম্বর, ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে মারা যান ।

 

এই পোস্টগুলি আপনার ভাল লাগতে পারে:

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন