আফ্রিকা মহাদেশ | Africa continent

প্রাচীনকালে আফ্রিকা মহাদেশকে 'অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ' বা অজ্ঞাত মহাদেশ বলা হত। আফ্রিকা মহাদেশ ইউরোপের একেবারে কাছে হওয়া সত্ত্বেও উনিশ শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত তা ছিল ইউরোপীয়দের কাছে অজানা এবং অনাবিষ্কৃত । পরবর্তীতে লিভিংস্টন, স্ট্যানলি, বেকার প্রভৃতি পর্যটকদের দুঃসাহসিক অভিযানের ফলে এ মহাদেশ বহির্বিশ্বের কাছে পরিচিত হয়ে উঠে। আফ্রিকা মহাদেশের বন জঙ্গলে বহু জীবজন্তু বাস করে। এজন্য আফ্রিকা মহাদেশকে 'বৃহদাকার চিড়িয়াখানা' বলা হয়।

পূর্ব আফ্রিকা

পূর্ব আফ্রিকার দেশ সমূহ
দেশ রাজধানী
বুরুন্ডি বুজুমবুরা
কমোরোস মরোনি
জাম্বিয়া লুসাকা
কেনিয়া নাইরোবি
মাদাগাস্কার আনতানানারিভো
মালায়ি লিলানগিয়ে
মরিশাস পোর্ট লুইস
মোজাম্বিক মাপুটো
রুয়ান্ডা কিগালি
উগান্ডা কাম্পালা
সিচেলিস ভিক্টোরিয়া
তাঞ্জানিয়া দোদোমা
প্রশাসনিক-দারুস সালাম

মোজাম্বিক : মোজাম্বিক ব্রিটিশ শাসনের অধীনে না থেকেও কমনওয়েলথের সদস্য ।

উগান্ডা :

  • মুসলিম প্রধান না হয়েও পূর্ব আফ্রিকার এ দেশটি ওআইসি এর সদস্য।
  • উগান্ডাকে 'Pearl of Africa' নামে অভিহিত করেন উইনস্টন চার্চিল।
  • উগান্ডাকে বজ্রঝড়ের দেশ বলা হয়।
  • এই দেশের গেরিলা সংগঠনের নাম 'Lords Resistance Army'.
  • দেশটির রাজধানীর নাম কাম্পালা এবং মুদ্রার নাম শিলিং।
  • সোমালিয়া 'Horn of Africa নামে পরিচিত

সিচেলিস : পৃথিবীর বৃহত্তম লবন উৎপাদন কারী অঞ্চল।

আফ্রিকার শিং

আফ্রিকার শিং অঞ্চল, যা পূর্ব আফ্রিকার শৃঙ্গ নামেও পরিচিত, লোহিত সাগর এবং আরব সাগরের মধ্যবর্তী আফ্রিকার পূর্বতম প্রান্তে অবস্থিত। ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, জিবুতি এবং সোমালিয়া নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলটি ১,৮৮৩,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।

আফ্রিকার শিং

আফ্রিকার মানচিত্র লক্ষ্য করলে দেখা যায় এর উত্তর-পূর্ব অংশ আরব সাগরে শিং এর মত বর্ধিত হয়েছে। আফ্রিকার এই উত্তর পূর্ব অংশকে আফ্রিকার শিং [Horn of Africa] বলে।

আফ্রিকার শিং অঞ্চলের দেশসমূহ
দেশ রাজধানী
সোমালিয়া মোগাদিসু
জিবুতি জিবুতি
ইরিত্রিয়া আসমারা
ইথিওপিয়া [ 'ইথিওপিয়া' এর পূর্বনাম - আবিসিনিয়া ] আদ্দিস আবাবা

মধ্য আফ্রিকা

মধ্য আফ্রিকার দেশসমূহ
দেশ রাজধানী
অ্যাঙ্গোলা লুয়ান্ডা
মধ্য আফিকান প্রজাতন্ত্র বানগুই
ক্যামেরুন ইয়াওউন্ডে
নিরক্ষীয় গিনি মালাবো
চাদ/শাদ এনজামেনা
গণতান্ত্রিক কঙ্গো কিনসাসা
কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ব্রাজাভিল
গ্যাবন লিব্রোভিলে
সাওটোমে এন্ড প্রিন্সিপে সাওটোমে

অ্যাঙ্গোলা :

  • প্রথমে পর্তুগাল ও স্বাধীনতার সময় যুক্তরাজ্যের উপনিবেশ ছিল।
  • অ্যাঙ্গোলার বিদ্রোহী স্বাধীনতাকামী সংগঠনের নাম ইউনিটা ।

চাদ / শাদ :

  • শাদ এর নামকরণ করা হয় শাদ হ্রদের নাম থেকে।
  • আয়তন অনুসারে এটি আফ্রিকার পঞ্চম বৃহত্তম দেশ।
  • শাদকে 'Dead heart of Africa' বলা হয়।

গণতান্ত্রিক কঙ্গো :

  • মধ্য আফ্রিকার আয়তনে সর্ববৃহৎ দেশ।
  • বিদেশি শাসন থেকে মুক্ত করার লড়াইয়ে চিরস্থায়ী নাম প্যাট্রিক লুম্বো।
  • পৃথিবীর সবচেয়ে খর্বকায় জাতি পিগমিদের বসবাস এই কঙ্গোতে [ গড় উচ্চতা ১.৪ মিটার ] ।
  • মধ্য আফ্রিকার বৃষ্টিবহুল অঞ্চলের অধিবাসী।

উত্তর আফ্রিকা

উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর সীমারেখা জ্যামিতিক নকশার জন্য পরিচিত । উত্তর আফ্রিকা আফ্রিকা মহাদেশের ৭টি দেশ নিয়ে গঠিত।

উত্তর আফ্রিকার দেশসমূহ
দেশ রাজধানী
মিশর কায়রো
সুদান খার্তুম
দক্ষিণ সুদান জুবা
তিউনিশিয়া তিউনিশ
আলজেরিয়া আলজিয়ার্স
লিবিয়া ত্রিপলি
মরক্কো রাবাত

মিশর

  • শারম আল শেখ : মিশরের অবকাশ কেন্দ্র।
  • তাহরির স্কয়ার : এটি কায়রোর গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থল। উনিশ শতকের শাসক খেদিভ ইসলামকে শাসনক্ষমতা অর্পণের মধ্য দিয়ে সেখানে নতুন ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থল গড়ে ওঠে। এরপর ১৯১৯ সালে মিশর বিপ্লবের পর এ স্কয়ার হয়ে ওঠে তাহরির স্কয়ার। মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে যে গণবিক্ষোভ হয় তার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল তাহরির স্কয়ার।
  • পিরামিড : পিরামিডের দেশ মিশর। পিরামিড পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের একটি। প্রাচীন মিসর শাসন করত ফেরাউনরা। তাদের কবর বা সমাধিস্থ করার জন্যই নির্মাণ করা হতো পিরামিড। মিসরে ছোট বড় প্রায় ৭৫টি পিরামিড রয়েছে। সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় হলো খুফুর পিরামিড। এসব পিরামিডের জন্যই মিসরকে পিরামিডের দেশ বলা হয়।
  • ইসলামপন্থী সংগঠন : মিশরের ইসলামপন্থী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক দলের নাম- ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি।
  • সুয়েজ খাল : সুয়েজ খাল খনন করেন ফরাসি ইঞ্জিনিয়ার ফার্ডিনান্দ দ্য লিসেপস। ২৫ এপ্রিল ১৮৫৯ সালে এটির খনন কাজ শুরু হয় এবং ২৫ এপ্রিল ১৮৬৯ সালে এটি উদ্বোধন করে। মিশর সুয়েজ খালকে জাতীয়করণ করে ২৬ জুলাই ১৯৫৬।
  • ১৯৫২ সালে এক বিপ্লবের মাধ্যমে মিশরে রাজতন্ত্রের অবসান হয়।
  • বিশ্বে খেজুর উৎপাদনে শীর্ষ দেশ মিশর।
  • ইসরাইলকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম আরব দেশ - মিশর।
  • প্রতি দুই বছর পর পর যুক্তরাষ্ট্র ও মিশরের মধ্যে সামরিক মহড়ার নাম - ব্রাইট স্টার।
  • গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মিশরের প্রথম প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুরসি ১৭ জুন ২০১৯ আদালতে বিচার চলাকালে অসুস্থ হয়ে আদালত কক্ষেই মৃত্যুবরণ করেন।

সুদান

  • দারফুর সঙ্কট (Darfur): দারফুর সুদানের একটি অঞ্চলের নাম। ২০০৩ সালে এখানে সুদান লিবারেশন আর্মি [SLA] এবং জাস্টিস এন্ড ইকুয়ালিটি মুভমেন্ট (JEM] সুদান সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করে। তাদের অভিযোগ, সুদান সরকার আরবদের পক্ষ হয়ে নিগ্রোদের উপর নির্যাতন করছে। সুদান সরকার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
  • অ্যাবেই: সুদান ও দক্ষিণ সুদানের সীমান্তবর্তী বিরোধপূর্ণ অঞ্চল।

দক্ষিঙ্গ সুদান

  • বিশ্বের নবীনতম স্বাধীন রাষ্ট্র।
  • জন্ম: ২০১১ সালের ৯ জুলাই।
  • দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতার নেতৃত্ব দেন জন গারাং মাবিওর এবং নেতৃত্বদানকারী দলের নাম সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট।

তিউনিশিয়া

  • আরব বসন্ত [Arab Spring]: আরবের বিভিন্ন দেশে গণজাগরণ আরব বসন্ত নামে পরিচিত। তিউনিশিয়াকে আরব বসন্তের সূতিকাগার বলা হয়। ২০১০ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিউনিশিয়ার নাগরিক মোহাম্মদ বুয়াজিজির আত্মাহুতির মাধ্যমে আরব বসন্ত শুরু হলে দ্রুত তা মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

আলজেরিয়া

  • আবদেল আজিজ বুতেফ্লিকা হল আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট। ১৯৯৯ সালে হতে তিনি স্বৈরশাসন চালিয়ে আসছেন। গত ১৬ ই ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে আলজেরিয়ার জনতা তাঁর বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে। কারণ ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন এপ্রিলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি আবার অংশ নেবেন। জন বিক্ষোভের মুখে ঘোষণা দিয়েছিলেন এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে অংশ নিবেন না ও নির্বাচনের পর পদত্যাগ করবেন। তবুও বিক্ষোভ চলছে বিশ্বব্যাপী এই বিক্ষোভ Smile Revolution নামে পরিচিত পেয়েছে।

লিবিয়া

  • বেনগাজিঃ লিবিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর।
  • আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের দীর্ঘ সময়ের শাসক ছিলেন কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি [৪২ বছর]। গাদ্দাফি ছিলেন লিবিয়ার স্বৈরশাসক।
  • লিবিয়া NATO বাহিনী পরিচালিত।
  • 'অপারেশন ওসিডি ডন'- এর সময়কাল ১৯ মার্চ ৩১ অক্টোবর, ২০১১।
  • পৃথিবীর উষ্ণতম স্থান আল- আজিজিয়া অবস্থিত - লিবিয়ায়।
  • লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি'র কেন্দ্রভাগে অবস্থিত একটি চত্বর গ্রিন স্কয়ার যেখানে গাদ্দাফি- বিরোধী গ্রুপগুলো আন্দোলন করেছিল।
  • আফ্রিকার লৌহ মানব গাদ্দাফিকে হত্যা করা হয় - ২০ অক্টোবর, ২০১১ [জন্মভূমি সিরতে]।

মরক্কো

  • ফেজ [Fez]: মরক্কোর একটি প্রাচীন রাজধানী। এটি ফেজ টুপির জন্য বিখ্যাত।
  • কাসাব্লাঙ্কা: মরক্কোর একটি বিখ্যাত শহর ও বন্দর।

দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চল

দক্ষিণ আফ্রিকা আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণতম অঞ্চল। দক্ষিণ আফ্রিকা আফ্রিকা মহাদেশের ৬টি দেশ নিয়ে গঠিত। দেশগুলো নিম্নরুপঃ

দক্ষিণ আফ্রিকার দেশসমূহ
দেশ রাজধানী
জিম্বাবুয়ে হারারে
লেসেথো ম্যাসেরু/
নামিবিয়া উইন্ডহুক
বতসোয়ানা গ্যাবরোন
সোয়াজিল্যান্ড মেবেন
রাজতান্ত্রিক লোবাম্বা
দক্ষিণ আফ্রিকা প্রশাসনিক- প্রিটোরিয়া,
সাংবিধানিক- কেপটাউন,
বিচারবিভাগীয়- ব্লোয়েম ফোনটেইন

⮚ জিম্বাবুয়ের একটি শহর হারারে যাকে 'City of flowering tress' বলা হয়।

⮚ দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম শহর ও সোনা ব্যবসা কেন্দ্র জোহানেসবার্গ । দক্ষিণ আফ্রিকার আইনসভা রাজধানী কেপ টাউন ।

পশ্চিম আফ্রিকা

পশ্চিম আফ্রিকার দেশসমূহ
দেশ রাজধানী
বেনিন পোর্টোনোভা
আইভরি কোস্ট ইয়ামুসুকুরে , প্রশাসনিক-আবিদজান
গাম্বিয়া বানজুল
গিনি কোনাক্রি
লাইবেরিয়া মনরোভিয়া
মৌরিতানিয়া নোয়াকচট
নাইজেরিয়া আবুজা
সিয়েরা লিয়ন ফ্রিটাউন
বারকিনাফাসো উয়াগাদুগু
কেপভার্দে প্যারায়া
ঘানা আক্রা
গিনিবিসাউ বিসাউ
মালি বামাকো
নাইজার নিয়ামে
সেনেগাল ডাকার
টোগো লোমে

আইভরি কোস্ট : আইভরি কোস্ট বিশ্বে কোকো উৎপাদনে শীর্ষ দেশ । আইভরি কোস্টে জাতিসংঘ মিশনের নাম UNOC .

ঘানা : ঘানার প্রধান উপজাতি আকান। ব্রিটিশ কলোনি থাকা অবস্থায় ঘানার নাম ছিল গোল্ড কোস্ট।

গিনি : স্থপতি আহমেদ সেকতুরে

লাইবেরিয়া : লাইবেরিয়াকে আফ্রিকার মরুভূমি বলা হয়। আফ্রিকার সবচেয়ে প্রাচীন প্রজাতন্ত্র লাইবেরিয়া ।

মালি : টিম্বাকতু: এটি নাইজার নদীর তীরে অবস্থিত। এটি একটি প্রাচীন মুসলিম শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ।

নাইজেরিয়া : ইবাদান নাইজেরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। লোকসংখ্যায় এটি আফ্রিকার বৃহত্তম দেশ ।

সিয়েরা লিয়ন : এই দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা বাংলা। ইংরেজি ভাষা সিয়েরা লিওনের প্রথম সরকারি ভাষা। এখানে আরও প্রায় ২০টি ভাষা প্রচলিত। এদের মধ্যে মেন্দে ভাষা ও তেমনে ভাষা উল্লেখযোগ্য।

দক্ষিা আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকা আফ্রিকা মহাদেশের একমাত্র শিল্পোন্নত দেশ। এটি বতসোয়ানা, লেসোথো, সোয়াজিল্যান্ড এবং নামিবিয়ার সাথে সীমান্তে অবস্থিত। দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী প্রিটোরিয়া, ব্লুমফন্টেইন এবং কেপ টাউন। East London দক্ষিণ আফ্রিকার একমাত্র নদীবন্দর। এটি ভারত মহাসাগরের তীরে অবস্থিত দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্বের একটি শহর।

বর্ণবাদী নীতি

  • ১৯৪৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় 'বর্ণবাদী নীতি' চালু হয়। এই নীতির আওতায় দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণকে শ্বেতাঙ্গ [White], কৃষ্ণাঙ্গ [Black], রঙিন [Coloured], ভারতীয় [Indian]- এই চারভাগে ভাগ করা হয়। এই নীতির মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার হরণ করে সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গরা শাসন ক্ষমতা কুক্ষিগত করে।
  • ১৯৯৪ সালে সকল বর্ণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নেলসন ম্যান্ডেলার নেতৃত্বাধীন ANC জয়লাভ করলে বর্ণবাদের অবসান হয়। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩৪২ বছরের [১৬৫২- ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দ] শ্বেতাঙ্গ শাসনেরও অবসান হয়।
  • দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ শ্বেতাঙ্গ প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রেডরিক উইলিয়াম ডি ক্লার্ক।

নেলসন ম্যান্ডেলা

  • জন্ম: ১৮ জুলাই, ১৯১৮ খ্রিঃ।
  • রাজনৈতিক দল: আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস [ANC]
  • ১৯৬১ সালে তিনি ANC এর সশস্ত্র শাখা গঠন করেন।
  • ১৯৬২ সালে নাশকতামূলক কার্যক্রমের অভিযোগে গ্রেফতার হন।
  • ১৯৬৪ সালে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তিনি অধিকাংশ সময় রোবেন দ্বীপে কারারুদ্ধ ছিলেন।
  • ১৯৯০ সালে ২৭ বছর কারাবাসের পর মুক্তিলাভ করেন।
  • ১৯৯৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
  • ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
  • The 46664 Campaign: এইডসবিরোধী প্রচারণা। নামের রহস্য- ৪৬৬ নং কয়েদি, ৬৪-১৯৬৪ সাল। নেলসন ম্যান্ডেলা ১৯৬৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ৪৬৬ নং কয়েদি ছিলেন।
  • ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর পরলোকগমন করেন। ১৫ ডিসেম্বর নিজ গ্রাম কুনুতে তাকে সমাহিত করা হয়।
  • অন্য নাম: মাদিবা, তাতা, খুলু, ডালিভুঙ্গা, রোলিহ্লাহ্লা
  • তাকে 'আফ্রিকার গান্ধী" বলা হয়।

আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস [ANC]

  • দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল।
  • প্রতিষ্ঠাকাল: ৮ জানুয়ারি, ১৯১২।

সরকার

  • সরকার ব্যবস্থা : রাষ্ট্রপতি শাসিত।
  • রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান: প্রেসিডেন্ট
  • ক্ষমতাসীন দল : আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস। [ANC]

অন্যান্য তথ্য

  • প্রশাসনিক রাজধানী : প্রিটোরিয়া
  • আইনসভা রাজধানী : কেপটাউন
  • বিচার বিভাগীয় রাজধানী : ব্লুমফনটেন
  • আইনসভা : পার্লামেন্ট
  • স্বাধীনতা লাভ করে : ৩১ মে, ১৯১০ সালে
  • বিশ্বের বৃহত্তম স্বর্ণখনি :জোহেন্সবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকা
  • আদি শ্বেতাঙ্গ উপনিবেশ এর নাম : কেপ অব গুড হোপ।
  • দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম সামুদ্রিক বন্দর : ডারবান।
  • কালাহারি মরুভূমির কিছু অংশ এখানে অবস্থিত।
  • দক্ষিণ আফ্রিকার 'মাদার অব নেশন' : উইনি ম্যান্ডেলা।
  • দেশের মন্ত্রীসভার অর্ধেক সদস্যই নারী : দক্ষিণ আফ্রিকা।
  • ইস্ট লন্ডন ভারত মহাসাগরের তীরে অবস্থিত দক্ষিণ আফ্রিকার দক্ষিণ পূর্বের একটি শহর।
أحدث أقدم