বাংলাদেশের কৃষিজ সম্পদ | বিসিএস প্রস্তুতি

কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পরিচিতি সমগ্র পৃথিবীব্যাপী। একথা মিথ্যে নয় যে, বাংলাদেশের মাটিতে সোনার ফসল ফলে। কৃষিই এদেশের মানুষের প্রধান উপজীবিকা। এখানকার শতকরা আশিজন লোক কৃষির উপর নির্ভরশীল। আমাদের দেশের কৃষকেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্য উৎপন্ন করে। মোট দেশীয় আয়ের ১২.৬৪ শতাংশ কৃষি থেকে আসে । বাংলাদেশের কৃষিজ সম্পদকে প্রধানত দু’ভাগে ভাগ করা যেতে পারে । যেমন- খাদ্যশস্য ও অর্থকরী ফসল । খাদ্যশস্যের মধ্যে রয়েছে ধান , গম , ভূট্রা , কলাই , তৈলবীজ , মশলা , ফলমূল ইত্যাদি । অর্থকরী ফসলের মধ্যে রয়েছে পাট , তুলা , আঁখ , চা , তামাক , রেশম ইত্যাদি ।

বাংলাদেশের আবাদী জমি ও কৃষিজ মৌসুম

  • বাংলাদেশে মোট জমির পরিমাণ : ৩ কোটি ৩৮ লক্ষ ৩৪ হাজার একর
  • বাংলাদেশে মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ : ২ কোটি ৪০ লক্ষ একর
  • বাংলাদেশে চাষের অযোগ্য জমির পরিমাণ : ২৫ লক্ষ ৮০ হাজার একর
  • মাথাপিছু আবাদী জমির পরিমাণ : ০.২৮ একর বা ০.৮ হেক্টর
  • বাংলাদেশে কৃষকপ্রতি আবাদী জমির পরিমাণ : ০.১৫ একর
  • খাস জমির পরিমাণ : ২ লক্ষ ৬০ হাজার ৩৫৭ হেক্টর।
  • বার মাসি সবজি : লালশাক, বেগুন, ঢেড়স
  • সার্ক কৃষি তথ্য কেন্দ্র (SAIC) SAARC Agricultural Information Centre : ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় অবস্থিত।

কৃষি মেীসুম : ফসল উৎপাদনের জন্য সারা বছরকে ২ টি মৌসুমে ভাগ করা যায়- রবি মৌসুম ও খরিপ মৌসুম ।

রবি মৌসুম : রবি শস্য বলতে শীতকালীন শস্যকে বুঝায়। আশ্বিন মাস থেকে ফাল্গুন মাস (মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে মধ্য মার্চ) পর্যন্ত সময়কে রবি মৌসুম বলে। শীতকালীন সবজি - মূলা, শালগম, টমেটো, শীম, কপি ইত্যাদি ; ডালজাতীয় শস্য - মুগ, মশুরী, খেসারী, ছোলা ইত্যাদি; তৈলবীজ শস্য - সরিষা, সয়াবিন, বাদাম প্রভৃতি রবি শস্য।

খরিপ মৌসুম :
ক) খরিপ-১ : চৈত্র মাস থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত সময়কে (মধ্য মার্চ থেকে মধ্য জুলাই) খরিপ-১ বলা হয়। এই সময়কে গ্রীষ্মকালও বলা হয়। আউস ধান, পাট, ঢেঁড়স, পুইশাক, মিষ্টি কুমড়া, করলা, পটল, কাকরোল, বরবটি এ মৌসুমের প্রধান ফসল। আম, জাম, কাঁঠাল, পেঁপে এ মৌসুমের উল্লেখযোগ্য ফল।
খ) খরিপ-২ : আষাঢ় মাস থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত সময়কে (মধ্য জুন থেকে মধ্য সেপ্টেম্বর) খরিপ- ২ বলা হয়। এই সময়কে বর্ষাকালও বলা হয়। আমন ও বর্ষাকালীন সবজি এ মৌসুমের প্রধান ফসল। এই মৌসুমে বাতাবীলেবু, তাল, আমলকি, জলপাই পাওয়া যায়।

কৃষিশুমারি : পাকিস্তান আমলে একবার এবং বাংলাদেশ আমলে ছয়বার -- মোট সাতবার এ ভূখন্ডে কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৬০ সালে নমুনা আকারে কৃষিশুমারি হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে প্রথম কৃষিশুমারি হয় ১৯৭৭ সালে। তারপর ১৯৮৬ সালে, ১৯৯৭ সালে, ২০০৮ সালে এবং ২০১৯ সালে (৬ষ্ঠ কৃষিশুমারি)। এর মধ্যে ১৯৯৭ সালে কেবল পল্লী এলাকায় কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম পূর্ণাঙ্গ কৃষিশুমারি অর্থাৎ গ্রাম ও শহরে একযোগে অনুষ্ঠিত হয় ১১-১৫ মে ২০০৮।
[এছাড়াও ২০০৫ সালে নমুনা চয়নের মাধ্যমে একটি কৃষি জরিপ পরিচালনা করা হয়।]

ঝুম চাষ : পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত উপজাতি সম্প্রদায়ের ফসল উৎপাদনের এক বিশেষ পদ্ধতি হচ্ছে ঝুম চাষ। এ পদ্ধতিতে পাহাড়ের গায়ে গর্ত করে এক সাথে কয়েক প্রকার ফসলের বীজ বপন করা হয়। সাধারণত পাহাড়ের ঢালে নির্দিষ্ট দূরত্বে গর্ত করে তাতে একই সাথে কয়েক প্রকারের বীজ বপন করে এবং ফসল পরিপক্ক হলে পর্যায়ক্রমে সপ্তাহ করে। তাদের চাষকৃত ফসলের মধ্যে ধান, তুলা ও তিল প্রধান। উপজাতিরা বছরে দু'বার ঝুম চাষ করে থাকে। জুম চাষের বিকল্প পদ্ধতি হচ্ছে সল্ট ।

খাদ্যশস্য

কৃষিকাজের দ্বারা উৎপন্ন যে সব ফসলকে আমরা খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করি সেগুলিকে খাদ্যশস্য বলে। বাংলাদেশের শতকরা ৮০ ভাগ জমিতে খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়। উৎপাদিত খাদ্যশস্যের মধ্যে ধান, গম, ডাল, তেলবীজ, ভুট্টা, যব, জোয়ার এবং নানা রকম মসলা প্রধান।

ধান ( Paddy ) : ধান একটি একবীজপত্রী উদ্ভিদ। ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য। বাংলাদেশে আবাদি জমির ৮০ ভাগেই ধানের চাষ করা হয়। বর্তমানে রান উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে চতুর্থ। দেশে ধান উৎপাদনের পরিমাণ বার্ষিক ২ কোটি ৫০ লক্ষ টন। একর প্রতি ধান উৎপাদনের পরিমাণ ৬৮৭ কেজি। সমগ্র দেশে কম-বেশি ধান উৎপন্ন হয়, তবে সবচেয়ে বেশি ধান উৎপন্ন হয় ময়মনসিংহ জেলায় বাংলাদেশে ধানের শ্রেণীভেদ হলো ৪টি আমন, আউশ, বোরো ও ইরি । ধান উৎপাদনে চীন বিশ্বে প্রথম, রপ্তানিতে থাইল্যান্ড বিশ্বে প্রথম। নদী উপত্যকার সমভূমি, ১৬ - ৩০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা, ১০০-২০০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত ধান চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, রাজশাহী, বরিশাল, পটুয়াখালি, ঢাকা, দিনাজপুর ও খুলনা অঞ্চলে সর্বাপেক্ষা বেশি ধান উৎপন্ন হয়। বাংলাদেশে হাইব্রীড ধানের চাষ শুরু হয় ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে। এ সময় আলোক - ৬২১০ জাতের ধানের চাষ করা হয় । নওগাঁ জেলায় সবচেয়ে বেশি চালকল আছে।

উৎকৃষ্টমানের ধানঃ

  • বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলের বালাম
  • দিনাজপুরের কাটারীভোগ
  • ময়মনসিংহের বিরই
  • নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলের কালিজিরা চিনিগুঁড়া

বাংলাদেশে উৎপন্ন ধানঃ

  • বোরো ধান : শীতকালীন ফসল, নিচু জলাশয়, বিল, হাওড়সহ সহ অন্যান্য জমিতে উৎপাদিত হয়। ধান উৎপাদন সেচের উপর নির্ভরশীল। এটি সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয়।
  • আমন ধান : অপেক্ষাকৃত নীচু জমিতে উৎপাদিত হয়। রোপণ: আষাঢ়-শ্রাবণ, ধান কাটা: অগ্রাহায়ন-পৌষ
  • আউস ধান : উচু জমিতে উৎপাদিত হয়। রোপণ: চৈত্র-বৈশাখ, ধান কাটা: আষাঢ়-শ্রাবণ

উচ্চফলনশীল ধানঃ

  • ইরি-৮ : সর্বপ্রথম জাতের উফশি ধান জাত IRRI থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়।
  • বিনা-৮ : বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত লবণাক্ততা সহিষ্ণু ধান ।
  • বিনা-৯ : বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত লবণাক্ত সহিষ্ণু ধান ।
  • বি আর-১১ : জলমগ্ন এলাকায় সহনশীল ধান ।
  • ইরাটম-২৪ : নতুন জাতের উচ্চফলনশীল উফশী ধান ইরাটম- ২৪ উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ পারমাণবিক কৃষ্টি ইনস্টিটিউট। ধানের উপর গামারশ্মির প্রয়োগের মাধ্যমে এ ধান উদ্ভাবন করা হয় ।
  • ব্রি-৩৩ : উত্তরবঙ্গের মঙ্গা এলাকার জন্য উপযোগী ধান ।
  • ব্রি-৪৬ : বন্যা পরবর্তী এলাকায় উপযুক্ত ধান।
  • ব্রি-৪৭ : লবণাক্ত সহনশীল ধানের জাত
  • ব্রি-৬২ : বিশ্বের প্রথম জিঙ্ক সমৃদ্ধ ধান। আবিষ্কারক ড. মো: আলমগীর হোসেন।
  • ব্রি-৮১ : উচ্চমাত্রার আমিষযুক্ত ধান
  • অঘনিবোরা : এ ধানের চাল ভেজালেই ভাত পাওয়া যায়
  • পূর্বাচী : পূর্বাচী ধান আনা হয় গণচীন থেকে।
  • সুপার রাইস : সুপার রাইস হল উচ্চ ফলনশীল ধান।
  • ময়না : পাখি ছাড়া 'ময়না' একটি উচ্চ ফলনশীল ধান ।

গম ( Wheat ) : গম বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান খাদ্যশস্য। গম একটি শীতকালীন ফসল। সমতল ভূমিতে ২২ তাপমাত্রা এবং ৫০-৭৫ সে.মি. বৃষ্টিপাত গম চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। বাংলাদেশে সর্বাধিক গম উৎপন্ন হয় ঠাকুরগাঁও জেলায়। তবে গম গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দিনাজপুর জেলার নশিপুরে। রংপুর, কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর, রাজশাহী ও পাবনা অঞ্চলে গম বেশি উৎপন্ন হয়। দেশে উৎপন্ন উচ্চ ফলনশীল জাতের কয়েকটি গম হলো অঘ্রাণী, আকবর, বরকত, ইনিয়া-৬৬, পাভন- ৭৬, আনন্দ, কাঞ্চন, বলাকা, দোয়েল, শতাব্দী প্রভৃতি। দেশে বছরে উৎপন্ন গমের পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন। শতাব্দী গমের ফসল হেক্টর প্রতি ৪.৫৫ মেট্রিক টন।

ডাল (Pulse) : ডাল/ ডাউল শিম গোত্রের অন্তর্গত খাদ্যশস্য। ডাল জাতীয় শস্যের মধ্য মুগ, মসুর, ছোলা, খেসারি, মাষকালাই, মটর, অড়হর , বিউলি ইত্যাদি প্রধান। ডাল প্রোটিন প্রধান খাদ্য। এতে প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ এবং অত্যধিক লাইসিন থাকায় ও দামে সস্তা হওয়ায় ডালকে প্রায়শই গরিবের আমিষ বলা হয়। প্রোটিন ছাড়াও ডালে পর্যাপ্ত শর্করা, চর্বি ও খনিজ লবণ থাকে। এতে গমের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ও চালের তুলনায় প্রায় তিন গুণ প্রোটিন আছে। খেসারির ডাল যার বৈজ্ঞানিক নাম লাথাইরাস সাটিভাস (Lathyrus sativus)। এই ডালে বোয়া (BOAA) নামক এক প্রকার অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি হয়। এই অ্যাসিড 'ল্যাথারিজম' নামক পায়ের প্যারালাইসিসের জন্য দায়ী।

তেলবীজ (Oil seeds) : বাংলাদেশে উৎপাদিত প্রধান প্রধান তৈলবীজ হচ্ছে সরিষা, চীনাবাদাম, তিল, সূর্যমুখী, সয়াবিন, তিসি , রেড়ি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য । দেশে তৈলবীজের উৎপাদন একর প্রতি গড়ে ৩৭০ কেজি। আমাদের দেশে তৈলবীজের মধ্যে সরিষার চাষ সর্বাধিক। 'সফল' ও 'অগ্রণী' হলো উন্নতজাতের সরিষা। বাংলাদশে সাড়ে ৫ লাখ একর জমিতে সরিষা জন্মে। বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত চীনাবাদামের কয়েকটি নতুন জাত হলো বিনা চীনাবাদাম-১, বীনা চীনাবাদাম-২, বীনা চীনাবাদাম-৩। সরিষা উৎপাদনে ময়মনসিংহ, রাজশাহী, দিনাজপুর ও ঢাকা অঞ্চল প্রসিদ্ধ। ফরিদপুর, কুমিল্লা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে প্রচুর তিল ও তিসি জন্মে। কুমিল্লা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চল বাদাম চাষের জন্য বিখ্যাত ।

ভূট্টা (Maize) : ভুট্টা এক প্রকারের খাদ্য শস্য। এই শস্যটির আদি উৎপত্তিস্থল মেসোআমেরিকা। ইউরোপীয়রা আমেরিকা মহাদেশে পদার্পণ করার পর এটি পৃথিবীর অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগরাছড়ি), রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী অঞ্চলে ভুট্টার চাষ হয়। ঠাকুরগাঁও এ সবচেয়ে বেশি ভুট্টা হয়। রঙিন ভুট্টার আবিষ্কারক ড. আবেদ হাসান।

আনারস (Pineapples) : আনারস এক প্রকারের গুচ্ছফল। এই ফলের আদি জন্মস্থল দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে আনারসের চাষ হয়। পাহাড়ী এলাকায় আনারস চাষের ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।

আলু (Potatto) : আলু হল উদ্ভিদের একটি শ্বেতসারসমৃদ্ধ কন্দ এবং এটি আমেরিকার স্থানীয় একটি মূল সবজি । বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলে (মুন্সিগঞ্জে) আলু চাষ হয়। আলু উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে ৭ম। আলু উৎপাদনে শীর্ষে মুন্সিগঞ্জ।

ফসল উৎপাদনে শীর্ষ জেলা :

  • ডাল উৎপাদনে শীর্ষ জেলা : রাজশাহী
  • আম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা : রাজশাহী
  • কলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা : টাঙ্গাইল
  • গম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা : ঠাকুরগাঁও
  • ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা : ময়মনসিংহ

ফসল উৎপাদনে গবেষণা কেন্দ্র :

  1. ধান জয়দেবপুর
  2. গম দিনাজপুর
  3. ডাল ঈশ্বরদী, পাবনা
  4. কলা ঢাকা
  5. আম চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  6. মসলা বগুড়া
  7. তেলবীজ খামারবাড়ি, ঢাকা
খাদ্যশস্যে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান
ফসল উৎপাদনে আমদানিতে
ধান ৩য়
গম ৫ম
মোট ফল ২৮ তম
কাঁঠাল ২য়
মৌসুমি ফল ১০ম
আম ৮ম
পেয়ারা ৮ম
আপেল ৩য়

অর্থকরী ফসল

যে সকল ফসল সরাসরি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে চাষ করা হয়, তাদের অর্থকরী ফসল বলে। অর্থকরী ফসলের মধ্য পাট, চা, আখ, তামাক, রেশম, রাবার ও তুলা প্রধান।

পাট (Jute) : পাট উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষদেশ ভারত। পাট উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় এবং রপ্তানিতে ও দ্বিতীয় । পৃথিবীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পাট বাংলাদেশে উৎপন্ন হয়। এটি বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে পাটকে 'সোনালী আঁশ ' বলা হয়। বাংলাদেশের মোট আবাদি জমির ৫ শতাংশে পাট চাষ করা হয়। দেশে একর প্রতি পাটের ফলন গড়ে ৬৯৬। কেজি। বর্তমানে দেশে প্রতি বছর প্রায় ৯.৫৩ লক্ষ একর জমিতে চাষ করা হয়। সাধারণত তিন ধরনের পাট উৎপন্ন হয় সাদা , তোষা ও মেশতা। তোষা পাট থেকে উন্নতমানের আঁশ পাওয়া যায়। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি পাট উৎপাদিত হয় ফরিদপুর জেলায়। ময়মনসিংহ-ঢাকা-কুমিল্লা অঞ্চল বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ 'পাটবলয়'। দেশে পাটের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র হলো নারায়ণগঞ্জ। জুটন পাট ও তুলার সংমিশ্রণে এক ধরনের কাপড়। এতে ৭০ ভাগ পাট ও ৩০ ভাগ তুলা থাকে। ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুল্লাহ জুটন আবিষ্কার করেন। একটি কাঁচা পাটের গাইটের ওজন সাড়ে চার মণ। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৯৫১ সালে। এটি ঢাকায় অবস্থিত। তাছাড়া IJ SG (International Jute Study Group) এর সদর দপ্তর ও ঢাকায় অবস্থিত। ৬ মার্চ জাতীয় পাট দিবস উদযাপন করা হয়। পাট থেকে তৈরী চা এর নাম মিরাকল টি। পাট থেকে তৈরী পলিথিন - সোনালি ব্যাগ । এর প্রধান আবিষ্কারক মুবারক আহমেদ খান। পাটের জিন বিন্যাস আবিষ্কার করেন বাংলাদেশের ড. মাকসুদুল আলম। তিনি ও তার সহযোগীরা ২০১০ সালে তোষা পাটের জিনোম সিকোয়েন্স বা জীবন রহস্য উন্মোচন করেন। জিনোম সিকোয়েন্সকে কাজে লাগিয়ে প্রথম উৎপাদিত পাট হলো রবি-১।

চা (Tea) : 'চা'-এর আদিবাস হলো চীন। বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রথম চা চাষ আরম্ভ হয় ১৮৪০ সালে চট্টগ্রাম ক্লাব প্রাজ্ঞাণে। তবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সিলেটের মালনীছড়ায় দেশের প্রথম চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫৪ সালে। চা দেশের দ্বিতীয় প্রধান অর্থকরী ফসল । বর্তমানে দেশে ১৬৮টি চা বাগান রয়েছে। সর্বশেষ চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয় খাগড়াছড়ি জেলায় । বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চা উৎপন্ন হয় মৌলভীবাজার জেলায়। পানি নিষ্কাশন বিশিষ্ট উঁচু ও ঢালু জমি (যেমন-পাহাড়), ২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত, ১৫ - ১৭ সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং উর্বর, লোহা ও জৈবমিশ্রিত দোআঁশ পলিমাটি চা চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী । বাংলাদেশ চা বোর্ড গঠিত হয় ১৯৭৭ সালে চট্টগ্রামে। বিশ্ববাজারে উৎপাদিত চায়ের মাত্র ২ শতাংশ চা বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় ।

জেলাভিত্তিক চা বাগানের সংখ্যা
জেলা চা বাগানের সংখ্যা
মৌলভীবাজার ৯১
হবিগঞ্জ ২৫
চট্টগ্রাম ২১
সিলেট ১৯
পঞ্চগড়
রাঙ্গামাটি
ঠাকুরগাঁও
খাগড়াছড়ি
মোট ১৬৮
  • বাংলাদেশের প্রথম চা জাদুঘর ১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৯ সালে শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজারে যাত্রা শুরু করে।
  • দেশে উৎপাদিত প্রথম উন্নত জাতের চা: বিটি-১২
  • বাংলাদেশে অর্গানিক চা উৎপাদন শুরু হয়েছে পঞ্চগড়ে। ২০০০ সালে পঞ্চগড়ে কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট নামে একটি অর্গানিক চা বাগান স্থাপিত হয় ।
  • চা উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৯ম এবং রপ্তানিতে বিশ্বে অবস্থান ১৫তম।
  • চা উৎপাদনে শীর্ষ দেশ চীন এবং রপ্তানিতে কেনিয়া।

চা বোর্ড : পাকিস্তান আমলে ১৯৫০ সালের চা আইন অনুসারে ১৯৫১ সালে ১১ সদস্যবিশিষ্ট পাকিস্তান চা বোর্ড গঠিত হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৭ সালে চা অধ্যাদেশ জারির পরই গঠিত হয়। ১৯৮৪ সালে গঠিত বাংলাদেশ চা বোর্ড চট্টগ্রাম জেলার নাসিরাবাদ উপজেলায় অবস্থিত। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত।

তামাক (Tobacco) : বাংলাদেশে তামাক উৎপন্ন হয় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া ও বরিশাল জেলায় সবচেয়ে বেশি তামাক উৎপন্ন হয় রংপুর জেলায়। সুমাত্রা, ম্যানিলা হল উন্নতজাতের তামাক। তামাক চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু, ১৮.৭-২৭ সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও ১০০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত প্রয়োজন।

আখ (Sugarcane) : আখ শব্দের উৎপত্তি "ইক্ষু" থেকে। আখ হচ্ছে বাঁশ ও ঘাসের জাতভাই। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি আখ উৎপাদিত হয় নাটোর জেলায়। একক জেলা হিসেবে বাংলাদেশের ১৫ টি সরকারি চিনিকলের মধ্য এই জেলায় দুটি চিনিকল অবস্থিত। প্রধান আখ চাষ অঞ্চল হল রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ।

তুলা (Cotton) : বাংলাদেশে যশোর জেলা তুলা চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। এছাড়া বগুড়া, রংপুর, পাবনা, দিনাজপুর, ঢাকা, টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া ও ময়মনসিংহে তুলা উৎপন্ন হয়। তুলা শস্যের দু'টি উন্নত জাত 'রূপালী' ও 'ডেলফোজ'। তুলা উন্নয়ন বোর্ড ১৪ডিসেম্বর , ১৯৭২ সালে ফার্মগেট, ঢাকায় গঠন করা হয়।

রাবার (Rubber) : অধিক বৃষ্টিপাত অঞ্চলে রাবার উৎপন্ন হয়। বাংলাদেশে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সন্নিকটে রামু নামক স্থানে রাবার চাষ করা হয়। দেশে প্রথম রাবার বাগান করা হয় কক্সবাজারের রামুতে, ১৯৬১ সালে। এখানে দেশের সর্বাধিক রাবার উৎপন্ন হয়। বাংলাদেশের বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন এর আয়ত্ত্বাধীন রাবার বাগান ১৬টি।

রেশম (Silk) : রাজশাহী ও বগুড়া অঞ্চলে রেশম উৎপাদিত হয়। রাজশাহী জেলা রেশম গুটি উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। রাজশাহী ছাড়াও দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া অঞ্চলে রেশম চাষ হয়। বর্তমানে ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, সিলেট, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা অঞ্চলেও নতুন করে রেশমগুটির চাষ হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি রেশম গুটির চাষ হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জে। রেশম চাষকে ইংরেজিতে বলা হয় সেরিকালচার। দেশে রেশম বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয় রাজশাহীতে ১৯৭৭ সালে ।

বিটি বেগুন : সম্প্রতি জেনিটিক্যাল মোডিফায়েড শস্য বিটি বেগুন নিয়ে বাংলাদেশে বিতর্ক চলছে।

বাংলাদেশের অর্থকরী কৃষিজ সম্পদ

বাংলাদেশে শীতকালে ব্যাপকভাবে সরিষা ক্ষেতে মৌ চাষের মাধ্যমে মধু উৎপাদন করা হয়। এছাড়া কুল ও কালো জিরা ক্ষেতেও এই মধু চাষের উপযোগী। মাকসুদুল আলম বাংলাদেশে জিনোম গবেষণার পথিকৃৎ ও জিনতত্ত্ববিদ। ১৯৯৭ সালে আবিষ্কার করেন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া 'হেলো ব্যাকরেটিয়ামের জীবনরহস্য', ২০০৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে 'পেঁপে' ও ২০০৯ সালে মালয়েশিয়া সরকারের 'রবার'-এর জীবনরহস্য উম্মোচনের গবেষণায় নেতৃত্ব দেন। ২০১০ সালে তিনি বাংলাদেশের হয়ে সফলভাবে উম্মোচন করেন পাটের জিন নকশা। সর্বশেষ তিনি ছত্রাকের জীবনরহস্য উম্মোচন করেন। বাংলাদেশে সর্বশেষ ইলিশের জিনোম উন্মোচিত হয়েছে।
নিচে অর্থকরী ফসল উৎপাদনের শীর্ষ জেলা ও গবেষণা কেন্দ্র উল্লেখ করা হল :

  • ফসল: পাট
    শীর্ষ জেলা: ফরিদপুর
    গবেষণা কেন্দ্র: শেরেবাংলানগর, ঢাকা
  • ফসল: চা
    শীর্ষ জেলা: মৌলভীবাজার
    গবেষণা কেন্দ্র: শ্রীমঙ্গল
  • ফসল: রেশম
    শীর্ষ জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী
    গবেষণা কেন্দ্র: রাজশাহী
  • ফসল: আঁখ
    শীর্ষ জেলা: রাজশাহী
    গবেষণা কেন্দ্র: ঈশ্বরদী, পাবনা
  • ফসল: তুলা
    শীর্ষ জেলা: ঝিনাইদহ
    গবেষণা কেন্দ্র: ফার্মগেট, ঢাকা
  • ফসল: রাবার
    শীর্ষ জেলা: রামু, কক্সবাজার
    গবেষণা কেন্দ্র: ঢাকা
  • ফসল: রেশম
    শীর্ষ জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী
    গবেষণা কেন্দ্র: রাজশাহী
  • ফসল: তামাক
    শীর্ষ জেলা: রংপুর
বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান
পণ্য উৎপাদনে আমদানিতে রপ্তানিতে
বৈশ্বিক পণ্য ৩০ তম ৪২ তম
সবজি ৩য়
পাট ২য়
চা ৯ম ১৫ তম
সয়াবিন তেল ২১ তম ৩য়
তুলা ১ম
গবাদিপশু ১২ তম
মাছ ৩য়
ছাগলের দুধ ২য়

উন্নতমানের ফসলের জাত

উন্নত ফসলের জাত
ফসলের নাম ফসলের জাত
ধান (Paddy) ইরাটম, ব্রিশাইল, সোনার বাংলা ১, সুপার রাইস, হাইব্রীড হীরা, ময়না, চান্দিনাম, হরিধান, মালাইরি, Golden rice, ব্রিবালাম, মালা, বিপ্লব, আশা, প্রগতি, মুক্তা, লারিফা- ১, আলোক- ৬২১০
গম (Wheat) অগ্রণী-সোনালিকা, বলাকা, দোয়েল, আনন্দ, আকবর, কাঞ্চন, বরকত, শতাব্দী
ভুট্টা (Maize) উত্তরণ (ব্রাক উদ্ভাবিত), বর্ণালী, শুভ্র, খইভুট্টা, মোহর, সুপার সুইট কর্ন, সোয়ান-২, বারি ভূট্টা - ৫. বারি ভুট্টা - ৬
সরিষা (Mustard) সফল, অগ্রণী
তুলা (Cotton) রূপালী ও ডেলফোজ, ডেল্টা পাইন ১৬, বিএসি ৭
তামাক (Tobacco) সুমাত্রা, ম্যানিলা
মরিচ (Chilli) যমুনা
পুঁই শাক সবুজ ও চিত্রা
টমেটো (Tomato) মিন্টু (বাংলাদেশে উদ্ভাবিত প্রথম হাইব্রিড টমেটো), বাহার, মানিক, রতন, ঝুমকা, সিঁদুর, শ্রাবণী
আলু (Potato) ডায়মন্ড, কার্ডিনেল, কুফরী, সিন্দুরী
ফুলকপি আর্লি স্নোবল, হোয়াইট ব্যরন, ট্রপিক্যাল, রাক্ষুসী।
বাধাকপি (Cabbage) গোল্ডেন ক্রস, কে ওয়াই ক্রস, গ্রীন এক্সপ্রেস, ড্রাম হেড, প্রভাতী বারি বাঁধাকপি-১,২
আম (Mango) মহানন্দা, মোহনভোগ, লেংড়া, গোপালভোগ, পালমরা, কার্টিমন, ব্যানানা ম্যাংগো, ব্রুনাই কিং
তরমুজ (Water-melon) পদ্মা, টপইন্ত, ডব্লিউ এম - ০০২/০০৩
কলা (Banana) অগ্নিশ্বর, কানাইবাঁশী, মোহনবাঁশী, বীট জবা, অমৃতসাগর, সিংগাপুরী, মেহেরসাগর, সবরি
বেগুন (Brinjal) ইওরা, শুকতারা ও তারাপুরী
সয়াবিন ব্রাগ, ডেভিস, সোহাগ, বাংলাদেশ সয়াবিন ৪
পেয়ারা কাজীপেয়ারা, স্বরূপকাঠি কাঞ্চননগর, মুকুন্দপুরি।
কচু বিলাসী, লতিরাজ
  • বাংলামতি: এক প্রকার ধান
  • অ্যাটনাম-৭০: বাঁধাকপি
  • 'ইলামতি' হলো: এক ধরনের আম

কৃষি সম্পর্কিত সাম্প্রতিক তথ্য

বাংলাদেশের GI পণ্য: GI হলো একটি নাম বা সাইন যেটা নির্দিষ্ট একটি পণ্যের জন্য ব্যবহার করা হয়, যা কোনো একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার (শহর বা দেশ) পণ্যের পরিচিতি বহন করে। এতে পণ্যটি ঐ দেশের পণ্য হিসেবে খ্যাতি পায় এবং প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়। GI -এর পূর্ণ অভিব্যক্তি: Geographical Indication; যার বাংলা 'ভৌগোলিক নির্দেশক'। সাধারণত জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা WIPO ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের নিবন্ধন দেয়। WIPO বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য নিবন্ধন দেয়ার এখতিয়ার দেয় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (DPDT) কে।

বাংলাদেশের GI (জি আই) পণ্যসমূহ: ৯টি
পণ্য সনদ প্রদান সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান
১. জামদানি শাড়ী ২০১৬ বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশন। (BSCIC)
২. ইলিশ ২০১৭ মৎস্য অধিদপ্তর (DOF)
৩. চাপাইনবাবগঞ্জের খিরশাপাত আম / হিমসাগর আম ২০১৯ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI)
৪. মসলিন ২০২১ বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড
৫. রাজশাহী সিল্ক ২০২১ বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড
৬. বিজয়পুরের সাদা মাটি ২০২১ জেলা প্রশাসকের কার্য্যালয়, নেত্রকোনা
৭. দিনাজপুরের কাটারীভোগ ২০২১ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI)
৮. বাংলাদেশ কালিজিরা ২০২১ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI)
৯. রংপুরের শতরঞ্জি ২০২১ বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (BSCIC)

ইউনেস্কো-স্বীকৃত বাংলাদেশের ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ- শীতল পাটি ও জামদানি

ফসলের নতুন জাত
ফসলের নাম উদ্ভাবনকারী জাতের নাম
ধান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) ব্রি ধান-৯৩, ব্রি ধান ৯৪ ও ব্রি ধান-৯৫, Golden Rice বা 'সোনালি ধান'
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বাউ ধান-৩
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (BSMAU) বি ইউ ধান-২
গম বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BINA) বিনা গম-১
আলু বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) বারি আলু-৭২, বারি আলু-৭৩
আখ বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (BSRI) বিএসআরআই আখ ৪৫
পাট বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনষ্টিটিউট (BJRI) বিজেআরআইদেশি পাট শাক-১ (বিজেসি-৩৯০)
পাটশাক বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনষ্টিটিউট (BJRI) দেশি পাটশাক-২ (ম্যাড়া লাল) ও BJRI দেশি পাটশাক ৩ (ম্যাড়া সবুজ)
টমেটো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরকৃবি) বিইউ চেরি টমেটো ১
  • মাছ উৎপাদনে শীর্ষ জেলা : ময়মনসিংহ
  • চিংড়ি উৎপাদনে শীর্ষ জেলা : সাতক্ষীরা
  • মসুর উৎপাদনে শীর্ষ জেলা : রাজশাহী
  • আখ উৎপাদনে শীর্ষ জেলা : নাটোর
  • পেঁয়াজ উৎপাদনে শীর্ষ জেলা : পাবনা
  • কাঁঠাল উৎপাদনে শীর্ষ জেলা : কুষ্টিয়া
  • সয়াবিন উৎপাদনে শীর্ষ জেলা : লক্ষ্মীপুর
  • কমলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা : মৌলভীবাজার

বাংলাদেশী কর্তৃক জীবন রহস্য উন্মোচন ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা :
• তোষা পাট (৬ জুন ২০১০)
• দেশি বা সাদা পাট (১৮ আগস্ট ২০১৩)
• পাটে ক্ষতিকর ছত্রাক (১৯ সেপ্টেম্বর ২০১২)
• মহিষ (২৪ শে জানুয়ারী ২০১৪)
• গমের ব্লাস্ট রোগ (১৪ ই ফেব্রুয়ারি ২০১৭)
• ইলিশ (১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮)
• ব্ল‍্যাক বেঙ্গল ছাগল (১৩ নভেম্বর ২০১৮)
• ধইঞ্চা (২৯ শে নভেম্বর ২০১৮)

সার

  • মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে বায়ুর -- নাইট্রোজেন
  • বাতাসের নাইট্রোজেন মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে -- পানিতে মিশে মাটিতে শোষিত হওয়ার ফলে
  • উদ্ভিদ সাধারণত মাটি থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে -- নাইট্রেট (NO3) হিসাবে
  • বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে উদ্ভিদের খাদ্য উপাদান বৃদ্ধি পায় -- নাইট্রোজেন। কারণ- আকাশে বিদ্যুৎক্ষরণের সময় নাইট্রোজেন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে নাইট্রোজেনের অক্সাইডসমূহ উৎপন্ন করে। নাইট্রোজেনের অক্সাইডসমূহ পানির সাথে মিশে নাইট্রিক এসিড উৎপন্ন করে। এ নাইট্রিক এসিড বৃষ্টির পানির সাথে মিশে মাটিতে পতিত হয় এবং জমির ক্ষারীয় উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে নাইট্রেট লবণ উৎপন্ন করে। উদ্ভিদ এ নাইট্রেট গ্রহণ করে।
  • নাইট্রোজেন সম্বলিত সার -- ইউরিয়া, ক্যালসিয়াম নাইট্রেট, সোডিয়াম নাইট্রেট, ক্যালসিয়াম অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, অ্যামোনিয়াম সালফেট ইত্যাদি।
  • নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে প্রস্তুত করা হয় -- ইউরিয়া, অ্যামোনিয়াম সালফেট সার
  • আমাদের দেশে ইউরিয়া সার উৎপাদন করার কাঁচামাল -- প্রাকৃতিক গ্যাস
  • ইউরিয়া সার উৎপাদন করা হয় -- বেসিমার পদ্ধতিতে
  • ইউরিয়া সারে নাইট্রোজেন থাকে -- ৪৬%
  • ফসফেট সার -- টি.এস.পি, ক্যালসিয়াম সুপার ফসফেট, কালসিয়াম সুপার ফসফেট নাইট্রেট, ফসফেটিক প্ল্যাগ, ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট ইত্যাদি।।
  • টি.এস.পি -- টি.এস,পি হল মনো ক্যালসিয়াম ফসফেট (Ca(H2PO4)2] সাধারণ সুপার ফসফেট সারের তুলনায় এর ভিতর তিনগুণ পরিমাণে মনো ক্যালসিয়াম ফসফেট থাকে। তাই একে ট্রিপল সুপার ফসফেট বলা হয়।
  • ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট এ নাইট্রোজেন ও ফসফরাস এর পরিমাণ -- ২০-৩০% ফসফরাস, ১৬-১৮% নাইট্রোজেন
  • পটাসিয়াম সমৃদ্ধ সার -- মিউরেট অব পটাশ
  • নাইট্রোজেন সারের কাজ -- উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য
  • ফসফরাস সারের কাজ -- ফসলের মূল বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য
  • পটাশ সারের কাজ -- ফুল-ফল ধারণে বিশেষ ভূমিকা রাখে
  • স্বর্ণা -- এক ধরনের জৈব সার
  • স্বর্ণা সারের আবিষ্কারক -- ড. সৈয়দ আবদুল খালেক (১৯৮৭ সালে)
  • স্বর্ণা সারের বৈজ্ঞানিক নাম -- ফাইটা হরমোন ইনডিউসার
  • বাংলাদেশের প্রথম সার কারখানা - ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লি ফেঞ্চুগঞ্জ, সিলেট। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬১ সালে এবং বিলুপ্ত হয় ৩০ জুন ২০১২।

মাটি

  • প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক গঠনের উপর ভিত্তি করে মাটি ৫ প্রকার : ১. পাহাড়ি মাটি ২. ল্যাটোসেলিক মাটি ৩. পলল মাটি ৪. জলাভূমি মাটি ৫. কোষ মাটি
  • বুনটের উপর ভিত্তি করে মাটি ৩ প্রকার যথাঃ বেলে মাটি, দোআঁশ মাটি, এঁটেল মাটি।
  • Acid (অম্ল) মাটি : অনুর্বর
  • কৃষি জমিতে কিসের জন্য চুন ব্যবহার করা হয় : মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
  • সিলেটে পাহাড়িয়া অঞ্চলে আনারস চাষ করা হয় কারণ : এতে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
  • মৃত্তিকা গবেষণা ইনস্টিটিউট অবস্থিত : ঢাকায়
বেলে মাটি দোআঁশ মাটি এঁটেল মাটি
• যে মাটিতে ৭০ ভাগ বা তার বেশি বালিকণা থাকে, তাকে বেলে মাটি বলে।
• মরুভূমি, চরাঞ্চল ও সমুদ্র উপকূলে বেলে মাটি দেখা যায়।
• এই মাটির পানি ধারণক্ষমতা কম।
• এই মাটিতে জৈব পদার্থ নেই। তাই এ মাটি চাষের উপযোগী নয়।
• যে মাটিতে বালি, পলি , কর্দমকণা প্রায় সমান অনুপাতে বিদ্যমান থাকে, তাকে দোআঁশ মাটি বলে।
• এ মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বেশি, তাই চাষের জন্য সর্বাপেক্ষা উপযোগী।
• এ মাটির পানি ধারণ ও শোষণক্ষমতা উভয়ই বেশি।
• বাংলাদেশের অধিকাংশ মাটি দোআঁশ মাটি।
• কৃষিক্ষেত্রে দোআঁশ মাটিকে আদর্শ মাটি বলা হয়।
• যে মাটিতে ৪০-৫০% কর্দমকণা থাকে, তাকে এঁটেল মাটি বলে।
• এই মাটির পানি ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ।
• এই মাটিকে ভারি মাটিও বলা হয়।

মাটির অম্লত্ব বেড়ে গেলে অত্ত্ব কমানারে জন্য মাটিতে ক্ষারকীয় পদার্থ যেমন চুন (CaO) বা চুন জাতীয় পদার্থ যেমন ম্যাগনেশিয়া (MgO) ব্যবহার করতে হয়। এতে মাটির pH বেড়ে যায় তথা অধিক অত্ব দূর হয়। ডলোমাইট ম্যাগনেশিয়ার একটি উৎস। তাই মাটির pH বাড়াতে ডলোমাইট ব্যবহার করা যায়।

বাংলাদেশের কৃষিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান

  • বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট : জয়দেবপুর, গাজীপুর
  • বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট : ময়মনসিংহ
  • বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট : জয়দেবপুর, গাজীপুর
  • বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট : মানিক মিয়া এভিনিউ, ঢাকা
  • বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট : ঈশ্বরদী, পাবনা (প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩১ সালে)
  • বাংলাদেশ চিনি শিল্প গবেষণা ইনস্টিটিউট : ঈশ্বরদী, পাবনা
  • বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট : শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
  • বাংলাদেশ পশুসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট : সাভার, ঢাকা
  • বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট : রাজশাহী
  • বাংলাদেশ চামড়া গবেষণা ইনস্টিটিউট : সাভার, ঢাকা
  • মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট : ময়মনসিংহ (পূর্বে ছিল চাঁদপুর)
  • বাংলাদেশ মৌমাছি পালন ইনস্টিটিউট : ঢাকা
  • উদ্যান গবেষণা কেন্দ্র : ঢাকা
  • বাংলাদেশ আম গবেষণা কেন্দ্র : চাপাইনবাবগঞ্জ
  • বাংলাদেশ গম গবেষণা কেন্দ্র : নশিপুর, দিনাজপুর
  • বাংলাদেশ মসলা গবেষণা কেন্দ্র : শিবগঞ্জ, বগুড়া
  • বাংলাদেশ ডাল গবেষণা কেন্দ্র : ঈশ্বরদী, পারনা
  • মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট : ফার্মগেট, ঢাকা
  • বাংলাদেশ তাঁত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট : সাহেবপ্রতাপ, নরসিংদী
  • ফল গবেষণা ইনস্টিটিউট : রাজশাহী বিনোদপুরে

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন
Agricultural Development Corporation (BADC)
নালিতাবাড়ীতে রাবার ড্যাম: BADC-এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Agricultural Development Corporation (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন)। এটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান।

কাজসমূহ: কৃষি উপকরণ উৎপাদন, সংগ্রহ, পরিবহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থা টেকসই করা এবং অত্যাবশ্যকীয় কৃষি উপকরণ (বীজ, ধান) সরবরাহ এবং কৃষকের জন্য সেচের ব্যবস্থা করা। ১৪ মে ২০১৬ শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে চেল্লাখালী নদীর ওপর সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC)-এর নির্মিত চেল্লাখালী রাবার ড্যাম উদ্বোধন করা হয়। এ রাবার ড্যামের মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা সমমূল্যের ২,২৫০ মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদন সম্ভব হবে। প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে চেল্লাখালী নদীতে নির্মিত রাবার ড্যামটি ৩৬ মিটার দীর্ঘ ও ৪.৫ মিটার উঁচু। এ রাবার বাধ প্রায় ৯ কিলোমিটার এলাকায় পানি ধরে রাখবে।

BARI
প্রতিষ্ঠাকাল: ৪ আগস্ট ১৯৭৬
অবস্থান: গাজীপুর, জয়দেবপুর
শস্য গবেষণা কেন্দ্র: ৬ টি, আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র: ৬ টি
উপকেন্দ্র: ২৩ টি

BRRI
প্রতিষ্ঠাকাল: ১ অক্টোবর ১৯৭০
অবস্থান: জয়দেবপুর, গাজীপুর
শাখা কার্যালয়: পাঁচটি, গবেষণা বিভাগ: ১৯টি
আঞ্চলিক কার্যালয়: ১১টি
উদ্ভাবিত ধানের জাত: ১০০টি, ইনব্রিড ৯৪টি ও হাইব্রিড ৬টি

  • বিনা (BINA) প্রতিষ্ঠিত হয় - ১৯৭২ সালের ১ জুলাই।
  • বিনার (BINA) সদর দপ্তর - ময়মনসিংহে
  • কৃষি ব্যাংক প্রদর্শিত হয় - ১৯৭৫ সালে
  • IRDP হল - সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি।
  • কৃষি উদ্যান - কাশিমপুর গাজীপুর।
  • বাংলাদেশ কৃষি দিবস - ১৫ নভেম্বর/১ অগ্রহায়ন।
  • দেশের প্রথম কৃষি জাদুঘর - কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।
  • পাহাড়ি অঞ্চলের জুম চাষ হয় - ৯০ শতাংশ জমিতে।
  • কৃষিতে নিয়োজিত জনশক্তি - ৪০.৬ শতাংশ।
  • বাংলাদেশ আবাদি জমিতে সেচ দেয়া হয় - ২০ শতাংশ জমিতে।
  • দেশের প্রথম ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা চালু হয় - সিলেটে।
  • বাংলাদেশ ভারত যৌথ নদী কমিশন গঠিত হয় - ১৯৭২ সালে।
  • বাংলাদেশের প্রথম সেচ প্রকল্প - গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্প।
  • বাংলাদেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প - তিস্তা সেচ প্রকল্প।
  • বাংলাদেশে মঙ্গা দেখা যায় - ভাদ্র-আশ্বিন, কার্তিক মাসে।
  • চর অঞ্চলে সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন - চর জীবিকায়ন
  • গঙ্গা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের প্রস্তাব - নেপালে জলাধার নির্মাণ।
  • নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত বিজ্ঞানী বাংলাদেশ সফর করেন - প্রফেসর নরম্যান বোরলগ।
  • বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রথম রাষ্ট্রপতি পুরস্কার ঘোষণা করা হয় - ১৯৭৯ সালের ১৪ এপ্রিল।
  • বাংলাদেশের বৃহত্তম কৃষি খামার হলো - ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার দত্তনগর কৃষি খামার। ১৯৬২ সালে এ খামারের কাজ শুরু হয়। এতে জমির পরিমাণ ২৩৩৭ একর।

সেচ প্রকল্প, বাঁধ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ

  • বাংলাদেশের প্রথম সেচ প্রকল্প : গঙ্গা-কপোতাক্ষ (G-K) সেচ প্রকল্প, ১৯৫৪ সালে স্থাপিত হয়।
  • জি.কে প্রকল্পের আওতাভূক্ত অঞ্চল : কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা
  • বাংলাদেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প : তিস্তা বাঁধ প্রকল্প। মূলত এটির নাম তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প (IBIP)। ৫ লক্ষ ৪০ হাজার হেক্টর ভূমিতে সেচ প্রদন করা হয়। এটি লালমনিরহাট জেলার তিস্তা নদীর ডালিয়া ও দোয়ানী পয়েন্টে অবস্থিত।
  • তিস্তা বাঁধ অবস্থিত : লালমনিরহাট জেলায়
  • তিস্তা বাঁধ প্রকল্পে আওতাভূক্ত অঞ্চল : রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, লালমনিরহাট ও নীলফামারী। এ প্রকল্পের আয়তন ৫৪০৪ বর্গকিমি।
  • তিস্তা বাঁধ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হয় : ১৯৫৯-৬০ সালে
  • তিস্তা বাঁধ প্রকল্প উদ্ভোধন করা হয় : ৫ আগস্ট, ১৯৯০
  • মেঘনা ধনাগোঙ্গা সেচ প্রকল্প : চাঁদপুরের মতলবে অবস্থিত।
  • DND বাঁধের পুরো নাম : ঢাকা-নারায়নগঞ্জ-ডেমরা
  • বাকল্যান্ড বাঁধ অবস্থিত : বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ব্রিটিশ আমলে এ বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদ

  • বাংলাদেশের প্রধান জলজসম্পদ : মাছ ও পানি
  • বাংলাদেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদার শতকরা ৬০ ভাগ পূরণ করে : মাছ
  • অভ্যন্তরীণ মৎস্য আহরণে বাংলাদেশ : ৩য়
  • বাংলাদেশের মৎস্য আইনে রুই জাতীয় মাছের পোনা ধরা নিষেধ : ২৩ সে.মি কম দৈর্ঘ্যের
  • পিরানহা- এক ধরনের রাক্ষুসে মাছ
  • মুখে ডিম রেখে বাচ্চা ফুটায় : তেলাপিয়া মাছ
  • পুকুরে যে মাছ বাচে না : ইলিশ
  • Thurst sector বলা হয়- হিমায়িত খাদ্যকে
  • White Gold বলা হয়- চিংড়ি মাছ
  • বাংলাদেশের সমুদ্র তীরবর্তী সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড : চিংড়ী মাছের চাষ
  • মাছ (সামুদ্রিক) শিকারের জন্য বিখ্যাত দ্বীপ : সোনাদিয়া
  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে চিংড়ির অবস্থান : ২য়
  • গলদা চিংড়ি চাষ হয়- স্বাদু পানিতে
  • বাগদা চিংড়ি চাষ হয়- লোনা পানিতে
  • চিংড়ি চাষের জন্য বাংলাদেশের কুয়েত সিটি বলা হয় : খুলনা অঞ্চলকে
  • ফিশারিজ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট
  • বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এর অবস্থান : ময়মনসিংহ । এর পাঁচটি কেন্দ্র রয়েছে। যথা-
    সামুদ্রিক মৎস ও প্রযুক্তি কেন্দ্র- বাজার
    চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্র - বাগেরহাট
    লোনা পানি কেন্দ্র- খুলনা
    স্বাদু পানি কেন্দ্র-ময়মনসিংহ
    নদী কেন্দ্র - চাঁদপুর

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অধিদপ্তর তিনটি:

  1. মৎস্য অধিদপ্তর
  2. প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর
  3. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য
  • এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র - হালদা নদী, এখান থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রেনু পোনা সংগ্রহীত হয়।
  • বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে মৎস্য খাতের অবদান - ৩.৫০%।
  • দেশের রপ্তানি আয়ের - ১.৩৯% আসে মৎস্য খাত হতে।
  • দেশের মৎস্য হ্যাচারি - সরকারি: ১৩৮ টি, বেসরকারি: ৯০৭ টি
  • দৈনন্দিন খাদ্য প্রাণী মানুষের মধ্যে মাছ থেকে প্রায় ৬০%
  • দৈনিক মাথাপিছু মাছ সরবরাহ - ২৮ গ্রাম।
  • মাথাপিছু দৈনিক মাছ গ্রহণের পরিমাণ - ৬২.৫৮ গ্রাম।
  • সরকারি মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র - ৮৬ টি।
  • সরকার ঘোষিত দেশের প্রথম মৎস অভয়াশ্রম - হাওড় হাইল (শ্রীমঙ্গল মৌলভীবাজার)
  • সামুদ্রিক মাছ শিকারের জন্য বিখ্যাত - সোনাদিয়া দ্বীপ
  • মাছ ও শুটকির জন্য বিখ্যাত - সোনাদিয়া দ্বীপ
  • চিংড়ি রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য - খুলনাকে কুয়েত সিটি বলে।
  • ইলিশের প্রজনন কমেছে - পদ্মায়।
  • বর্তমানে দেশে ইলিশের অভয়াশ্রম - ৬টি।
  • ষষ্ঠ অভয়াশ্রম - বরিশাল জেলায় অবস্থিত।
  • দেশের ইলিশ অধ্যুষিত জেলা - ৩৬টি। বর্তমানে দেশের ১২৫টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যায়। [ সূত্র: মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ]
  • ইলিশ মাছের জীবনরহস্য (Genome Sequence) উন্মোচন করেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের দুটি দল। প্রায় একই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) দুই দল বিজ্ঞানী ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচনে সাফল্য দেখান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গবেষক দলের নেতৃত্ব দেন প্রাণ রসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হাসিনা খান। ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষক দলের নেতৃত্ব দেন ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামসুল আলম।
  • বিলুপ্ত প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে স্থাপিত অভয়াশ্রম ৪৩২টি (সূত্র: সংসদে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০)।
নবীনতর পূর্বতন