প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ


প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ (১৮৯৪-১৯৭৮)


প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ মুসলিম পুনর্জাগরণের লেখক হিসেবে খ্যাত। সাহিত্যের সকল শাখায় তিনি স্বচ্ছন্দে সফলতার সাথে অবাধ বিচরণ করে অবিভক্ত বাংলার অনগ্রসর বাঙালি মুসলমান সমাজের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জীবনের পুনর্জাগরণের প্রয়াস গ্রহণ করেছেন। ২২ জুন, ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সরকার রেডিও টেলিভিশনে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলে সে সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।

 

সাহিত্যিক উপাদান

সাহিত্যিক তথ্য

জন্ম

প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার ভূয়াপুর থানার বিরামদী (বর্তমান- শাবাজনগর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।

নামের পূর্বে প্রিন্সিপাল যোগ

করটিয়া সাদাত কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এবং বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার মুসলমানদের মধ্যে তিনিই প্রিন্সিপাল। এজন্য তার নামের পূর্বে প্রিন্সিপাল যোগ হয়ে প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ হিসেবে পরিচিত হন ।

বিশেষত্ব

তিনি মুসলিম পূনর্জাগরণবাদী লেখক হিসেবে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলামকে চিঠি

‘আল হেলাল সাহিত্য সমিতি' গঠনের মাধ্যমে তিনি তরুণদের সাহিত্য চর্চায় উৎসাহিত করেন। মুসলিম সমাজের উন্নয়নের চিন্তা করে তিনি কাজী নজরুল ইসলামকে একটা চিঠি লেখেন এবং দীর্ঘ তিন বছর পর নজরুল সেই চিঠির উত্তর দেন।

উপাধি

ব্রিটিশ সরকার তাকে ‘খান সাহেব’‘খান বাহাদুর’ উপাধি দেন কিন্তু ব্রিটিশ সরকার মুসলিম বিদ্বেষী হওয়ায় তিনি এ উপাধি প্রত্যাখ্যান করেন।

তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ শিশু সাহিত্য: চলাকালে পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার পক্ষে বিবৃতি প্রদান করেন। কিন্তু পরবর্তীতে এ মহান যুদ্ধে পাক বাহিনীর নৃশংসতার প্রতিবাদে তিনি পাকিস্তান সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' উপাধি প্রত্যাখ্যান করেন।

পুরস্কার

তিনি ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার' (১৯৬৩), ‘একুশে পদক' (১৯৭৬) পান ।

নাটক

ইব্রাহীম খাঁর নাটকগুলো:

‘কামাল পাশা’ (১৯২৭), ‘আনোয়ার পাশা' (১৯৩০), ‘কাফেলা' (১৯৫০), ‘ঋণ পরিশোধ' (১৯৫৫), 'ভিস্তি বাদশা' (১৯৫৭) ।

অন্যান্য রচনাবলি

ইব্রাহীম খাঁর অন্যান্য রচনাবলি:

উপন্যাস:বৌ বেগম' (১৯৫৮), এটি তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস ।

গল্পগ্রন্থ: ‘আলু বোখরা’(১৯৬০),‘উস্তাদ’(১৯৬৭), ‘দাদুর আসর’(১৯৭১),‘সোনার শিকল’, ‘মানুষ’ ।

স্মৃতিকথা:বাতায়ন’ (১৯৭৪), ‘লিপি সংলাপ'

ভ্রমণকাহিনি: ‘ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' (১৯৫৪), ‘নয়া চীনে এক চক্কর', 'বেদুঈনদের দেশে' (১৯৫৬)।

শিশু সাহিত্য:

‘ব্যাঘ্র মামা' (১৯৫১), ‘শিয়াল পণ্ডিত' (১৯৫২), ‘নিজাম ডাকাত' (১৯৫০), ‘ছোটদের মহানবী' (১৯৬১), ‘ইতিহাসের আগের মানুষ' (১৯৬১), ‘গল্পে ফজলুল হক’ (১৯৭৭), ‘ছোটদের নজরুল'

মৃত্যু

তিনি ২৯ মার্চ, ১৯৭৮ সালে মারা যান ।

 

এই পোস্টগুলি আপনার ভাল লাগতে পারে:

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন