প্যারীচাঁদ মিত্র


প্যারীচাঁদ মিত্র (১৮১৪-১৮৮৩)


বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী প্যারীচাঁদ মিত্র বাংলার নবজাগরণের অন্যতম অগ্রদূত এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক। তিনি ছিলেন ইয়ংবেঙ্গলের ভাবগুরু ডিরোজিওর শিষ্য। তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহের বিরোধিতা করেন এবং বিধবা বিবাহ সমর্থন করতেন। স্ত্রী শিক্ষার প্রচারে যথেষ্ঠ সক্রিয় ছিলেন।

 

সাহিত্যিক উপাদান

সাহিত্যিক তথ্য

জন্ম

প্যারীচাঁদ মিত্র ২২ জুলাই, ১৮১৪ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।

পেশা

তিনি কাগজ ও হুন্ডি ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি ‘প্যারীচাঁদ মিত্র অ্যান্ড সন্স' (১৮৫৫) নামক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী এবং ‘বেঙ্গল টি কোম্পানি' ও ‘ডারাং টি কোম্পানি’ বোর্ডের ডিরেক্টর ছিলেন ।

উপাধি

তার ছদ্মনাম টেকচাঁদ ঠাকুর। বাংলা ভাষায় তাঁর কৃতিত্বের জন্য পাদ্রি লঙ সাহেব তাঁকে ‘ডিফেন্স অব বেঙ্গল' নামে ডাকতেন। প্যারীচাঁদ মিত্র ছিলেন ইয়ংবেঙ্গলের ভাবগুরু ডিরোজিওর শিষ্য।

পত্রিকা সম্পাদনা

রাধানাধ শিকদার সহযোগে তাঁর সম্পাদিত ও প্রকাশিত পত্রিকা ‘মাসিক’ (১৮৫৪)।

তার প্রথম উপন্যাস

প্যারীচাঁদ মিত্র কর্তৃক রচিত ‘আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৭) বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস। এটি ইংরেজিতে Spoiled Child নামে অনূদিত। এটি বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস যা তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর নামে ১৮৫৪ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ‘মাসিক' পত্রিকায় লিখতেন। এটি কথ্য ভাষায় লিখিত যা ‘আলালি ভাষা' নামে পরিচিত।এ জন্য তাঁকে ‘বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ' বলা হয়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এ উপন্যাসের ভূয়সী প্রশংসা করেন।  এ উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র- মোকাজান মিঞা বা ঠক চাচা । ঠক চাচা চরিত্রটি ধূর্ততা, বৈষয়িক বুদ্ধি ও প্রাণময়তা নিয়ে এক জীবন্ত চরিত্র। অন্যান্য চরিত্র: ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ।

অন্যান্য গ্রন্থ

‘মদ খাওয়ার কী দায়, জাত থাকার কি উপায়' (১৮৫৯), 'রামারঞ্জিকা' (১৮৬০), 'গীতাঙ্কুর' (১৮৬১), ‘যৎকিঞ্চিৎ' (১৮৬৫), ‘অভেদী’ (১৮৭১), ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত' (১৮৭৮), ‘এতদ্দেশীয় স্ত্রীলোকদের পূর্বাবস্থা’ (১৮৭৮), ‘আধ্যাত্মিকা’ (১৮৮০), ‘বামাতোষিণী' (১৮৮১)।

কৃষিবিষয়ক গ্রন্থ

প্যারীচাঁদ মিত্রের কৃষিবিষয়ক গ্রন্থগুলো হল ‘কৃষিপাঠ’ (১৮৬১),  ও 'Agriculture in Bengal' (১৮৮১)।

চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমালোচনা

চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমালোচনা করে রচিত তাঁর প্রবন্ধের নাম  The Zamindar and Royats. তিনি গরিব চাষিদের রক্ষাকবচ হিসেবে ‘পঞ্চায়েত' ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি করেন।

মৃত্যু

তিনি ২৩ নভেম্বর, ১৮৮৩ সালে কলকাতায় মারা যান।

 

এই পোস্টগুলি আপনার ভাল লাগতে পারে:

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন